“শারদীয়ার উপহার প্রতি ঘরে শৌচাগার” এই ক্যাচ লাইন দিয়ে পুজোর  আগে ‘নবদিশা’  প্রকল্পের কাজ শুরু করছে মালদা জেলা প্রশাসন।

মালদা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক ভাস্কর মজুমদার

নিজস্ব প্রতিবেদন :  স্থায়ী শৌচাগার নেই মালদার প্রায় ২৫,৭৮৭টি দরিদ্র প্রান্তিক পরিবারের। আর্থিক অনটনের কারণে নিজেদের খরচে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় করে শৌচাগার তৈরি করা তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। এবার সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হচ্ছে  জেলা প্রশাসন। পুজোর আগেই জেলার এই পরিবারগুলির ঘরে শৌচাগার পৌঁছে দিতে ‘নবদিশা’ প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ।

অতিরিক্ত জেলা শাসক ভাস্কর মজুমদার জানান, গাজল, হবিবপুর, বামন গোলা এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের কিছু অংশে বসবাসকারী দরিদ্র, আদিবাসী এবং তফসিলি জাতিভুক্ত বহু পরিবারের স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে শৌচাগার নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। এবার তাঁদের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি CIF ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধু শৌচাগার তৈরি নয়, একইসঙ্গে পরিবারগুলির জীবিকার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এলাকার গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর।গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করে সেই গোষ্ঠীগুলির সক্ষমতা ইন বৃদ্ধি করা হবে। এরপর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিবারগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের অর্থের একটি অংশ শৌচাগার নির্মাণে এবং বাকি অংশ জীবিকা উন্নয়ন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যাবে।

ইতিমধ্যেই প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং শৌচাগার নির্মাণে যুক্ত রাজমিস্ত্রিদের ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় রাজমিস্ত্রিদেরও কাজে যুক্ত করা হবে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গোটা জেলায় ব্যাপক হারে শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

‘নবদিশা’ প্রকল্পে তিনটি পর্যায়ে শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মোট ২৫ হাজার শৌচাগার সম্পূর্ণ করা। নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর কাজের অগ্রগতি ও মান সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঋণের টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেই অর্থে রাজমিস্ত্রি-সহ নির্মাণকাজের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো হবে।

প্রশাসনের পরিকল্পনায় এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি শৌচাগার তৈরি করে দেওয়া নয়। ঋণের অর্থের একটি অংশ শৌচাগার নির্মাণে ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবিকার উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। অর্থাৎ, একদিকে শৌচাগার তৈরি হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলির আর্থিক অবস্থারও উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি মহিলাদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টিও এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

শারদ উৎসবের আগে ‘নবদিশা’ প্রকল্পকে সামনে এনে দরিদ্র পরিবারগুলির হাতে শৌচাগার পৌঁছে দেওয়াকে এক ধরনের উপহার হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের আশা, পুজোর আগেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করে দেওয়া সম্ভব হবে। এরপর ধাপে ধাপে জেলার ২৫ হাজার পরিবারের ঘরে স্থায়ী শৌচাগার তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *